কিসমিস এর উপকারিতা ও অপকারিতা [কিসমিস এর খুঁটিনাটি]

5/5 - (2 votes)

কিসমিস এর উপকারিতা – প্রাচীন কাল থেকেই ক্যালরির একটি অন্যতম উৎস হিসেবে কিসমিস খাওয়া হয়। কিসমিস রক্তস্বল্পতা সহজেই দূর করতে পারে। দুর্বল শরির কে দ্রুত সময়ের মধ্যে শক্তি ফিরিয়ে আনতে কিসমিস এর ভুমিকা অনেক।

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো কিসমিস এর পরিচয়,  কিসমিস কিভাবে তৈরি করা হয়,  কিসমিস এর উপকারিতা গুলো কি কি সে সব সম্পর্কে। আপনি যদি কিসমিস এর উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো সম্পর্কে না জানেন তাহলে আর্টিকেল টি শেষ পর্যন্ত পড়ার চেষ্টা করুন।

কিসমিস এর পরিচয়

কিসমিস আঙ্গুর থেকে তৈরি করা হয়। সাধারণত আঙ্গুর আমরা সবাই চিনি। এই আঙ্গুর গুলো কে রোদে শুকোনার পরে কিসমিস হয়ে যায়। কিসমিস কে অনেকে শুকনো আঙ্গুর হিসেবেও বলে থাকেন। কিসমিস সরাসরি খাওয়া যায়। আবার বিভিন্ন ধরণের খাদ্যের স্বাদ ও মান বাড়াতে কিসমিস ব্যবহার করা হয়। 

বিশ্বের অনেক গুলো দেশে কিসমিস বানিজ্যিক ভাবে তৈরি করা হয়। বিশেষ করে,  ভারত, ইরান, পাকিস্তান, ইরাক ইত্যাদি দেশ গুলো তে কিসমিস সবচেয়ে বেশি তৈরি করা হয়। কিসমিস তৈরি করার প্রক্রিয়া হলো – রোদের তাপ ব্যবহার করে অথবা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সাহায্যে গরম করে।

বিশেষ করে – মিস্টি জাতীয় যে কোনো খাবার এর স্বাদ বাড়াতে কিসমিস এর জুড়ি নেই। কিসমিস কে ইংরেজিতে রেইসিন বলা হয়। কিসমিস এ প্রচুর পরিমান ক্যালরি রয়েছে। যা দেহের জন্য অনেক বেশি উপকারি। 

কিসমিস এর পুষ্টি উপাদান

কিসমিস অনেক গুলো পুস্টি উপাদানে ভরপুর। একটি কিসমিসে যে সকল পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে সেগুলো হলো –

  • শর্করা – ৭৯ g
  • চিনি – ৫৯.১৯ g
  • খাদ্য আশ – ৩.৭ g
  • স্নেহ পদার্থ – ০.৪৬ g
  • প্রোটিন – ৩.০৭ g
  • থায়ামিন (বি১) – ০.১০৬ মিলি গ্রাম।
  • রিবোফ্লাভিন (বি২) – ০.১২৫ মিলি গ্রাম।
  • নায়াসিন (বি৩) – ০.৭৬৬ মিলি গ্রাম।
  • প্যানটোথিক – 
  • অ্যাসিড (বি৫) – ০.০৯৫ মিলি গ্রাম।
  • ভিটামিন বি৬ – ০.১৭৪ মিলি গ্রাম।
  • ফোলেট (বি৯) – ৫ ug
  • কোলিন – ১১.১ মিলি গ্রাম।
  • ভিটামিন সি – ২.৩ মিলি গ্রাম।
  • ভিটামিন ই – ০.১২ মিলি গ্রাম।
  • ভিটামিন কে – ৩.৫ ug.
  • ক্যালসিয়াম – ৫০ মিলি গ্রাম।
  • লৌহ – ১.৮৮ মিলি গ্রাম।
  • ম্যাগনেসিয়াম – ৩২ মিলি গ্রাম।
  • ফসফরাস – ১০১ মিলি গ্রাম।
  • পটাসিয়াম – ৭৪৯ মিলি গ্রাম।
  • সোডিয়াম – ১১ মিলিগ্রাম।
  • জিংক – ০.২২ মিলিগ্রাম।

প্রতি ১০০ গ্রাম কিসমিস এর মধ্যে এই সকল উপাদান গুলো বিদ্যমান থাকে। 

কিসমিস এর উপকারিতা

কিসমিস এর উপকারিতা

কিসমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমান পুষ্টি গুন। যে সব পুস্টি গুন গুলো আমাদের শরিরের জন্য বিশেষ ভাবে উপকারি। পটাশিয়াম,  আয়রন, ভিটামিন ইত্যাদি পুস্টিগুনে ভরপুর হলো কিসমিস। চলুন জেনে নেই কিসমিস এর বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত –

১. ওজন বাড়াতে কিসমিসের উপকারিতা

কম ওজন সুসাস্থ্য গঠনে অন্যতম একটি বাধা। সকলেই যে ওজন কমানোর চিন্তা করে এমন নয়, অনেকেই আছেন যাদের ওজন অনেক কম ও দুর্বল শরির। তারা নিয়মিত কিসমিস ভিজিয়ে খেতে পারেন। কিসমিস নিয়মিয় খাওয়ার ফলে ওজন দ্রুত সময়ের মধ্যে বৃদ্ধি পায়। এর জন্য আপনাকে নিয়মিত কিসমিস খেতে হবে। 

📌 আরো পড়ুন 👇

অনেকেই ওজন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ঔষধ গ্রহণ করেন। যা শরিরের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে। আপনি যদি সুস্থ ভাবে ওজন বৃদ্ধি করতে চান তাহলে কিসমিস খেতে পারেন।

২. শরিরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কিসমিসের উপকারিতা

শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যতো বেশি ভালো থাকবে ততো কম রোগ আপনার শরিরে বাসা বাধবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কিসমিস বেশ ভালো ভাবে কাজ করে থাকে।

কিসমিসে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান গুলো পাওয়া যায়। এগুলো আমাদের শরিরের রক্ত কনিকা গুলো কে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে আমাদের শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে সেটা সহজেই বৃদ্ধি পেতে থাকে।

৩. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কিসমিসের উপকারিতা

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে প্রকৃতিক উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি উপায় হলো কিসমিস এর মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ কমানো। কিসমিস খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায় আসতে আসতে।

কিসমিসের উপাদান গুলোর মধ্যে পাওয়া যায় পটাশিয়াম। পটাশিয়াম সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে থাকে। আপনার উচ্চ রক্তচাপ এর সমস্যা থাকলে কিসমিস খেতে পারেন।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কিসমিসের উপকারিতা

প্রকৃত ভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে খেতে পারেন কিসমিস। সাধারণত অনেকেই ঔষধ খেতে চান না। তারা নিয়মিত ভেজানো কিসমিস সকালে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য এর সমস্যা অনেকটা কমে যায়।

৫. হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে কিসমিসের উপকারিতা

আমাদের শরিরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো হজম শক্তি। হজম শক্তি যতো বেশি ভালো থাকবে শরির ততো বেশি সুস্থ থাকবে। পেটের গ্যাসের সমস্যার জন্য অনেকটা দায়ী হলো হজম শক্তির দূর্বলতা। হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য বিশেষ ভাবে কাজ করে কিসমিস। নিয়মিত কিসমিস খাওয়া শুরু করেন নিজেই অনেকটা বুঝতে পারবেন।

৬. রক্ত স্বল্পতা কমাতে কিসমিসের উপকারিতা

হিমোগ্লোবিন এর মাত্রা অনেক বেশি কমে যাওয়ার ফলে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। কিসমিস এর উপাদান গুলোর মধ্যে পাওয়া যায় আয়রন। আয়রন রক্তে থাকা হিমোগ্লোবিন এত মাত্রা বাড়ায়। যদি আপনি রক্ত স্বল্পতায় ভুগে থাকেন তাহলে অন্যান্য খাবারের সাথে কিসমিস যুক্ত করতে পারেন।

৭. ঘুম ভালো হওয়ার জন্য কিসমিস এর উপকারিতা

শরির এর পাশাপাশি মানুষিক সুস্থতাত জন্য পরিমান মতো ঘুম হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি ঠিক ভাবে ঘুম না হয় তবে শরির ও মনের শক্তি দুটোই লোপ পেতে শুরু করে। এ ছাড়াও নানান ধরণের শারিরীক সমস্যা দেখা দেয়।

ভালো ভাবে ঘুম হওয়ার জন্য অনেকেই ঘুমেত ঔষধ সেবন করেন যা আমাদের শরিরের জন্য ক্ষতিকর। তবে,  আপনি যদি রাতে ঘুমানোর পূর্বে কিসমিস খান তাহলে আপনার ঘুম ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৮. হাড় শক্ত করতে কিসমিসের উপকারিতা

কিসমিস এর উপাদান গুলোর মধ্যে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম উপাদান টি। যা আমাদের শরিরের হাড় ও দাত এর জন্য বেশ উপকারি। ক্যালসিয়াম আমাদের দাত এর গোড়া ও হাড় কে শক্ত করে তোলে।

হাড় ও দাত শক্ত করার জন্য নিয়মিত কিসমিস খেতে পারেন। যাদের হাড়ের ক্ষয় হয় তাদের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে ভালো ভাবে কাজ করে থাকে কিসমিস।

৯. হার্ট সুস্থ রাখতে কিসমিস এর উপকারিতা

হার্ট আমাদের শরিরের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। হার্টের সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি পান করতে পারেন। কিসমিস ভেজানো পানি হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ও শরির থেকে দুষিত কোলেস্টেরল দূর করে দেয়।

উপরের দেয়া উপকারিতা গুলো ছাড়াও কিসমিস এর অনেক পুস্টি গুন ও উপকারিতা পাওয়া যায়। সকল উপকারিতা গুলো পাওয়ার জন্য আপনাকে নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

কিসমিস এর অপকারিতা

কিসমিস এর অপকারিতা

কিসমিস অনেক গুলো উপায় আমাদের শরিরে উপকার করে থাকে। তবে, অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়ার ফলে কিসমিস এর ক্ষতিকর দিক গুলো ফুটে উঠে। কিসমিসের কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। যেগুলো জেনে বুঝে কিসমিস নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। সাধারণত যে সকল ক্ষতিকর দিক কিসমিস এ রয়েছে –

১। ওজন বাড়ে : যদি আপনার ওজন বেশি হয় আর নিয়মিত কিসমিস খাওয়া শুরু করেন তাহলে ওজন কমাতে পারবেন না। কারণ হলো কিসমিস নিয়মিত খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তাই আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে কিসমিস খাওয়া পরিহার করতে হবে বা কোনো ভাবেই নিয়মিত খাওয়া যাবে না।

২। এলার্জি সমস্যা: সাধারণত মাত্রা পরিমান কিসমিস খাওয়ার ফলে এলার্জি সমস্যা হতে দেখা যায় না। তবে আপনার যদি এলার্জি এর সমস্যা থাকে আর পরিমানে বেশি কিসমিস খেয়ে ফেলেন তাহলে সমস্যা হতে পারে। 

৩। রক্তে সুগার বাড়ে: সাধারণত কিসমিস রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত কিসমিস খেলে সুগার অনেক বেড়ে যাবে। তাই যারা ডায়াবেটিস এর রোগী আছেন তাদের ক্ষেত্রে কিসমিস পরিহার করতে হবে।

৪। ডায়রিয়া হতে পারে: পরিমানে বেশি কিসমিস খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া হতে পারে। যদি আপনার পূর্বে থেকেই পেটের নানান সমস্যা থাকে তাহলে সকালে খালি পেটে কিসমিস না খাওয়ার চেষ্টা করবেন। 

📌 আরো পড়ুন 👇

৫। পেটে গ্যাস  হয়: পরিমানে বেশি কিসমিস খাওয়ার ফলে আপনার পেটে গ্যাসের সমস্যা তৈরি হতে পারে। গ্যাস এর সমস্যা তৈরি হলে পরিমান কমিয়ে দিতে হবে। কিসমিস অল্প খেলে খুব একটা সমস্যা তৈরি হবে না। 

এ ছাড়াও শরির ভেদে বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক দেখা দিতে পারে। তাই পরিমান মতো কিসমিস খাওয়া উচিৎ। কোনো জিনিস এই অতিরিক্ত ভালো নয়। কিসমিস এর ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে এর অপকারিতার দিক গুলো উপকারিতার দিক এর চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠবে।

কিসমিস খাওয়ার নিয়ম

কিসমিস অনেক ভাবেই খাওয়া যায় এটার নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে,  এটা যেন পরিমানে বেশি না হয়ে যায়। পরিমানের বেশি কিসমিস খাওয়ার ফলে নানান ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়া যায়, রান্নার মসলা হিসেবে খাওয়া যায়,  সাধারণ ভাবেও খাওয়া যায়।

তবে সবচেয়ে ভালো ভাবে কাজ করে যদি আপনি কিসমিস ১ রাত ভিজিয়ে খান তাহলে। এ ক্ষেত্রে কিসমিসের সকল গুনাগুন গুলো সঠিক মাত্রায় পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে আপনি রাতে ঘুমানোর পূর্বে কয়েকটি কিসমিস একটা বাটিতে বিশুদ্ধ পানিতে ভিজিয়ে,  ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। পরের দিন সকাল বেলা কিসমিস গুলো সামান্য ফুলে উঠবে।

এর পরে আপনি পানি গুলো ফেলে দিয়ে কিসমিস গুলো চিবিয়ে খেয়ে নিন। অথবা আপনি চাইলে পানি ও খেতে পারেন। কিসমিস ভেজানো পানি হার্টের জন্য অনেক বেশি উপকারি হয়ে থাকে।

কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম

কিসমিস সবচেয়ে ভালো ভাবে কাজ করে থাকে ভিজিয়ে খালি পেটে খেতে পারলে। রাতে ভিজিয়ে সকালে কিসমিস ভেজানো পানি ও কিসমিস খেলে অনেক ধরণের উপকারিতা পাওয়া যায়। 

কিসমিসে কার্বোহাইড্রেট আছে,  যদি আপনি সকালে কিসমিস ও কিসমিস ভেজানো পানি খান তাহলে সারাদিনের সকল কাজের জন্য শক্তি পেয়ে যাবেন। সারাদিন দূর্বল অনুভব কম হবে অনেক পরিমানে।

১ কাপ পানি তে ৪০-৫০ গ্রাম কিসমিস আগের দিন ভিজিয়ে রাখুন। ভেজানোর পূর্বে অবশ্যই ভালো ভাবে পরিস্কার করে ধুয়ে নিবেন। সকাল বেলা হালকা গরম দিয়ে কিসমিস ভেজানো পানি খেয়ে নিতে পারেন।

দুধ কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

দুধ অত্যান্ত পুস্টি সমৃদ্ধ একটি তরল খাবার। দুধের সাথে কিসমিস মিশিয়ে খাওয়ার ফলে অনেক ধরণের উপকারিতা পাওয়া যায়। সাধারণত কিসমিস খাওয়ার সকল উপকারিতা তো পাবেন এই সাথে বাড়তি ও পাবেন। 

দুধ ও কিসমিস এক সাথে খাওয়ার ফলে আপনার শরিরের দূর্বলতা কেটে যাবে। এক গ্লাস দুধের মধ্যে ৩০-৪০ গ্রাম কিসমিস আপনার সারাদিনের ক্লান্ত শরির কে শক্তি যোগান দিতে সক্ষম হবে।

বিভিন্ন ধরণের যৌন সমস্যার ক্ষেত্রেও অনেকেই দুধ ও কিসমিস এক সাথে যুক্ত করে খেয়ে থাকেন। এতে যৌন জীবন ভালো থাকে। এ ছাড়াও পেটের সমস্যার জন্য দুধের সাথে কিসমিস খেতে পারেন।

শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়

আপনি কি জানেন – শুকনো ফলের রাজা কোনটি কে বলা হয়? আসলে শুকনো ফলের রাজা সাধারণত কিসমিস কে বলা হয়ে থাকে। 

অনেকেই শুকনো কিসমিস খেতে পছন্দ করেন।  ছোট বেলায় হয়ত অনেকেই লুকিয়ে নিয়ে কিসমিস খেয়েছেন আমার মতো। আসলে শুকনা কিসমিসে ও কিসমিসের সকল উপকারিতা পাওয়া যায়।

কিসমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার যা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে থাকে। পাশাপাশি ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়। তবে শুকনো কিসমিস বেশি খেলে কিন্তু সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সাধারণত শুকনো কিসমিস বেশি খাওয়ার ফলে আপনার পেটে ব্যাথা,  গ্যাস ইত্যাদি বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে,  শুকনো কিসমিস খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই ভালো ভাবে ধুয়ে নিতে হবে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিসমিস রাস্তায় অথবা কংক্রিটের উপরে শুকাতে দেয়া হয় যার ফলে এর মধ্যে প্রচুর পরিমানে ধুলা ও বালি থেকে যায়।

কিসমিস এর ব্যবহার

কিসমিস যে শুধু মাত্র ভিজিয়ে খাওয়া যায় বিষয় টা এমন নয়। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না কিসমিস কি কি ভাবে ব্যবহার করা যায়। সাধারণত অনেক ধরণের রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি করতে কিসমিস এর ব্যবহার হয়ে থাকে। 

📌 আরো পড়ুন 👇

কিসমিস যে কোনো মিস্টি জাতীয় খাবার স্বাদ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দেয়। এ ছাড়াও কোরমা ও পোলাও রান্নায় কিসমিস অনেক স্বাদ বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন ধরণের মিস্টি জাতীয় রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার দেখা যায় কিসমিস।

কিসমিস এর দাম

কিসমিস এর দাম পরিবর্তনশীল। যেহেতু বাংলাদেশে কিসমিস তৈরি করা হয় না তাই পার্শ্ববর্তী দেশ গুলোর তুলনায় কিসমিস বাংলাদেশে দাম কিছুটা বেশি। বর্তমান বাজারে প্রতি ১০০ গ্রাম কিসমিসের দাম হলো – ৫০ টাকা। তবে দাম যে কোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।

কিসমিস সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নউত্তর

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত?

কিসমিস বেশি খেলে নানান সমস্যা সৃষ্টি হয়। যার মধ্যে ডায়রিয়া,  গ্যাস,  এলার্জি অন্যতম। তাই প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম এর বেশি কিসমিস খাওয়া উচিৎ নয়।

রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়?

রাতে ঘুমানোর পূর্বে কিসমিস খাওয়ার ফলে ঘুম ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঘুম না আসা রোগীদের ক্ষেত্রে রাতে শোয়ার পূর্বে কিসমিস খাওয়া বেশ উপকারি।

কিসমিস খেলে কি মোটা হয়?

কিসমিস খেলে মোটা হওয়া সম্ভব। তবে শুধু মাত্র কিসমিস খেলে মোটা হতে পারবেন না। কিসমিস খাওয়ার পাশাপাশি আপনাকে অন্যান্য সকল পুস্টিকর খাবার গুলো খেতে হবে। সাধারণত কিসমিস ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

কিসমিস ভেজানো পানি খেলে কি হয়?

কিসমিস ভেজানো পানি আমাদের শরিরের জন্য অনেক উপকারি। নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়ার ফলে আপনার হার্ট সুস্থ থাকবে ও শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে।

কিসমিস এর ইংরেজি কি? 

কিসমিস কে ইংরেজি ভাষায় – Raisin, Damson, Current ইত্যাদি বলা হয়, অঞ্চল ও দেশ ভেদে।

ডায়াবেটিস এর রোগী কি কিসমিস খেতে পারে?

কিসমিস সুগার যদিও বাড়িয়ে দেয় তাই কিসমিস না খাওয়া উত্তম। তবে স্বল্প পরিমানে খেতে পারেন। তবে নিয়মিত কোনো ভাবেই খাওয়া যাবে না। ভেষজ ফল গুলো ধিরে ধিরে কাজ শুরু করে। নিয়মিত খেতে চাইলে ডাক্তার এর পরামর্শ নিন।

কিসমিস সম্পর্কে আমাদের মতামত

কিসমিসের উপকারিতা – সাধারণত কিসমিসে প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। একদিকে যেমন খেতে মিস্টি অন্যদিকে পুস্টিগুনেও ভরপুর। বিশ্বের সকল শুকনো ফলের মধ্যে সবচেয়ে সেরা হলো কিসমিস। যদি আপনি চান তাহলে কিসমিস খেতে পারেন। 

তবে,  আমাদের লেখা আর্টিকেল টি কোনো ডাক্তার কতৃক কোনো রোগের বিরুদ্ধে দেয়া পরামর্শ নয়। এ ক্ষেত্রে আপনাকে ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে কিসমিস খেতে হবে।

এছাড়াও, আরও কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই মন্তব্য করবেন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। এতক্ষন প্রযুক্তির বাংলা ব্লগের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।