শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার – প্রযুক্তির বাংলা

5/5 - (1 vote)

প্রযুক্তির বহুবিধ ব্যবহার মানুষের জীবনে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। তেমনি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি অনেক প্রভাব ফেলেছে। আজকের এই ব্লগে আপনাদের সাথে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

প্রযুক্তি যে শুধুমাত্র আমাদের উপকার করছে তা কিন্তু নয়। বরং, আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে প্রযুক্তি। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগে পদার্পণ করা অব্দি মানুষ তার জীবনের প্রতিটি কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে মানবজাতি পৃথিবীর বাইরে চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহ অব্দি পৌঁছাতে পেরেছে। তেমনি, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার নিয়ে আজ আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবো। চলুন, শুরু করা যাক।

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার

প্রযুক্তির উন্নয়ের কারণে আমরা শিক্ষাক্ষেত্রেও বিভিন্নভাবে প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে থাকি। কোভিড-১৯ এর সময়ের পর থেকে মানুষ শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার কত গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে পেরেছে। অনলাইনে ক্লাস করার পদ্ধতি সহ অনেকভাবেই প্রযুক্তি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার হয় এমন ৫টি দিক হচ্ছে –

  • অনলাইনে ক্লাস করা সুবিধা
  • ভর্তির ফলাফল/পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ
  • ই-বুক ব্যবহার করে পড়ালেখা করা
  • ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ
  • মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করা

উপরোক্ত ৫টি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক সহজেই এবং সৃজনশীল উপায়ে পড়ালেখা করতে পারে। উপরোক্ত শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার নিয়ে নিম্নে আরও বিস্তারিত আলোচনা করেছি। চলুন, জেনে নেয়া যাক।

অনলাইনে ক্লাস করার সুবিধা

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার

প্রযুক্তির উন্নতির কারণে শিক্ষার্থীরা এখন ঘরে বসে ক্লাস করার সুযোগ পাচ্ছে। স্কুল/কলেজে উপস্থিত না হয়েও শিক্ষার্থীরা এখন ঘরে বসে পাঠদান করতে পারছে। কোভিড-১৯ এর আগে মানুষ অনলাইনে ক্লাস করার কথা ভাবতেও পারতো না। কিন্তু কোভিড-১৯ আসার পর যখন পুরো পৃথিবী লক ডাউন এর আওতাভুক্ত, তখন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অনেক ক্ষতি হচ্ছিলো।

📌 আরো পড়ুন 👇

এমতাবস্থায়, নতুন এক প্রযুক্তির দেখা মেলে পুরো বিশ্বে। এটি হচ্ছে, ঘরে বসে ভিডিও কলের মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস করার সুবিধা। শিক্ষার্থীরা এখন গুগল মিট, জুম অ্যাপ ইত্যাদি ব্যবহার করে সহজেই অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে। শিক্ষক একসাথে শতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাস নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন অনলাইন ক্লাস সুবিধার মাধ্যমে।

এক যুগ আগেও কেউ অনলাইন ক্লাস করার কথা ভাবতে পারেনি। কিন্তু, প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখন মানুষ ঘরে বসে অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে। এতে করে, যেকোনো সমস্যায় যদি স্কুল বা কলেজ বন্ধ হয়ে যায়, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বন্ধ হবে না। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার এর মাঝে এটি সবথেকে কার্যকরী এবং বহুল ব্যবহৃত একটি প্রযুক্তি।

ভর্তির ফলাফল/পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ

পূর্বে যখন কোনো বোর্ড পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতো, তখন মানুষ সুদূর ঢাকা, চট্টগ্রাম গিয়ে বোর্ড থেকে রেজাল্ট জেনে আসতো। এছাড়াও, কলেজে গিয়ে রেজাল্ট শুনে আসতে হতো। কিন্তু, এখন যদি কোনো পরিক্ষার রেজাল্ট পাবলিশ হয়, মানুষ বাসায় বসেই রেজাল্ট পেয়ে যায়।

প্রযুক্তি উন্নয়নের কারণেই এই সমস্যা দূর করা সম্ভব হয়েছে। শুধুমাত্র রেজাল্ট শোনার জন্য কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার সমস্যা থেকে সবাই রেহাই পেয়েছে। ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরিক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ইন্টারনেট এর মাধ্যমে। ফলে, মানুষ ঘরে বসেই পরিক্ষার বিজ্ঞপ্তি জানতে পারে। অনলাইনের মাধ্যমে পরিক্ষার জন্য আবেদন করা যায়।

এতে করে, যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা হবে, সেখানে গিয়ে ভর্তি পরিক্ষার ফরম পূরণ করতে হয় না। মানুষ এখন বাংলাদেশে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করছে অনলাইনের মাধ্যমে। প্রযুক্তির উন্নয়ের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে এই উন্নতি সাধন সম্ভব হয়েছে।

যেকোনো ধরণের পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে এখন অনলাইনের মাধ্যমে রেজাল্ট জানা যায়। পরিক্ষার ফলাফল দেখার জন্য স্কুল/কলেজ যেতে হয় না। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহারের মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ই-বুক ব্যবহার করে পড়ালেখা করা

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার

পড়ালেখা এখন শুধুমাত্র কাগজে তৈরি বইয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন এবং প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে আমরা এখন কাগজের তৈরি বই ছাড়াও পড়ালেখা করতে পারি। বইয়ের নতুন ভার্সন তৈরি হয়েছে এবং সেটি হচ্ছে ই-বুক। ই বুক বা ইলেক্ট্রনিক বই। অর্থাৎ, মোবাইল/ট্যাবলেট/ল্যাপটপ/কম্পিউটারের সহযোগিতায় যে বই পড়া যায়, এটিই হচ্ছে ই-বুক।

পিডিএফ আকারে বই তৈরি হওয়ার কারণে এখন গাছ কেটে কাগজ তৈরি করে বই তৈরি করার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে প্রযুক্তির কল্যাণে। পিডিএফ বা ই-বুকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মাঝে বই শেয়ার করতে পারে নিজের কাছে একটি কপি রেখে দিয়েই।

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে এখন নানা ধরনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। নতুন নতুন পদ্ধতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখার কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারছে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ

ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন বিভিন্ন সোর্স থেকে তাদের পড়ালেখার জন্য যাবতীয় তথ্য খুঁজে বের করতে পারছে। যেমন – একজন শিক্ষার্থী একটি বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করার সময় তার বইয়ে নির্দিষ্ট একটি তথ্য খুঁজে পাচ্ছে না। যা অন্য বইয়ে আছে। এখন শিক্ষার্থীটি চাইলেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে সার্চ করে তার প্রয়োজনীয় তথ্যটি খুঁজে বের করতে পারবে।

গুগল, বিং, ইয়াহু, ইউটিউব সহ অনেক ফ্রি রিসোর্স রয়েছে হাতের নাগালেই। শুধুমাত্র ইন্টারনেট সংযোগ সহ একটি স্মার্টফোন/ট্যাবলেট/ল্যাপটপ/কম্পিউটার হলেই একজন শিক্ষার্থী তার প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই খুঁজে বের করতে পারে। এছাড়াও, স্কুল/কলেজে পড়ানো হয় না এমন বিষয়ের উপরে আগ্রহ থাকলেও একজন শিক্ষার্থী সেটি খুঁজে বের করতে পারে।

ইউটিউব হচ্ছে একটি ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম। যেখানে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিডিও আপলোড করছে। শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার জন্য ফ্রিতে ইউটিউব এ ক্লাস করাচ্ছেন। এতে করে পুরো দেশ এবং পৃথিবীর অনেক শিক্ষার্থী উপকৃত হচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখন ঘরে বসেই একজন শিক্ষার্থী তার বিষয়ের উপর পড়ালেখা এবং জ্ঞান অর্জন করতে পারছে।

অ্যাকাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি কর্মমুখী বা জীবনমুখি কোনো কিছু শিখতে চাইলে সেটিও প্রযুক্তির উন্নয়ের কারণে শেখা এখন অনেক সহজ। শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি হওয়ার কারণেই এসবকিছু সম্ভব হয়েছে।

মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে পাঠদান

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহারের মাঝে এটি সর্বপ্রথম শুরু হয়েছে। ক্লাসে শিক্ষার্থীদেরকে আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান করার জন্য মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে করে গতানুগতিক পাঠদান পদ্ধতির থেকে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হয় সবথেকে বেশি।

এখন স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটিগুলোতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করা হয়ে থাকে। ইন্টারনেট এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে পড়ালেখা করার জন্য অভ্যস্ত করতেও এই প্রযুক্তির অনেক ভুমিকা রয়েছে। একসাথে অনেক সংখ্যক শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করার জন্য মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে থাকে।

📌 আরো পড়ুন 👇

কারণ, বই থেকে কিংবা কোনো নোট থেকে পড়ানোর সময় একসাথে অনেক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা সম্ভব হয় না। যা মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের ব্যবহারের কারণে সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নয়নে সুদূর ভবিষ্যতে আমরা হয়তো আরও অনেক নতুন নতুন প্রযুক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবহার হতে দেখতে পাবো।

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি সম্পর্কে আমাদের মতামত 

আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছি। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ৫টি ব্যবহার ছাড়াও আরও অনেক উপায়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদেরকে আধুনিক এবং সৃজনশীল উপায়ে সবথেকে কার্যকরী পদ্ধতিতে পাঠদান করার উপায় হচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহার করা। প্রযুক্তির উন্নতি যেভাবে হচ্ছে, একসময় এমন পরিস্থিতি হবে যে আমরা প্রতিটি মুহূর্তে প্রযুক্তি ব্যবহার করবো যা এখন থেকেই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এছাড়াও, আরও কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই মন্তব্য করবেন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। এতক্ষন প্রযুক্তির বাংলা ব্লগের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।